মো.আলী মুবিন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে উঠে আসা ফুটপাথে পানি বিক্রেতা সংগ্রামী কিশোর সুজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সম্প্রতি পানি বিক্রি করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিজের বাবাকে পবিত্র হজে পাঠানোর আকুল ইচ্ছে প্রকাশ করেন সুজন। বিজয় টিভিতে প্রচারিত সেই ভিডিওটি নজরে আসামাত্রই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুটির স্বপ্নপূরণ ও তার সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই মানবিক নির্দেশনার আলোকেই আজ জিয়া উদ্যানে সংগ্রামী কিশোর সুজনের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

অনুদান হস্তান্তরকালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সুজনকে আর কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বা কায়িক শ্রমে না পাঠিয়ে নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর জন্য তার পরিবারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। একই সাথে সুজনের পড়াশোনার সমস্ত খরচ বহনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর এমন আশ্বাসের পর সুজনের বাবা অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে, তিনি তার ছেলেকে আর কখনো রাস্তায় পানি বিক্রি করতে দেবেন না, বরং অবিলম্বে তাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করাবেন।

এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আলহামদুলিল্লাহ অত্যন্ত সংবেদনশীল একজন মানুষ। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সমাজের ছোট ছোট মানবিক বা প্রান্তিক বিষয়গুলো সবসময় তার নজর এড়ায় না। একজন স্পোর্টসম্যান হিসেবে ক্রীড়াঙ্গনের বা সমাজের যেকোনো মানবিক ইস্যু সামনে এলেই প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার ও সংশ্লিষ্টদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন দূরদর্শী ও দরদী নির্দেশনায় গত প্রায় পাঁচ-সাত বছর ধরে এই ধরনের অসংখ্য মানবিক কাজ চলমান রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সুজন পানি বিক্রি করে তার বাবাকে হজ করাতে চায়—এটি অত্যন্ত মহৎ এবং বড় একটি নিয়ত। তবে তারা চান সুজন যেন ফুটপাথে পানি বিক্রি না করে, বরং ভালোভাবে পড়াশোনা করে বড় হোক এবং নিজের যোগ্যতায় উপার্জন করে তার বাবা-মায়ের এই স্বপ্ন পূরণ করুক। সুজনের পরিবারে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ এবং একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবার কষ্টের কথা বিবেচনা করে প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, এখন থেকে সুজনকে আর রাস্তায় নামতে হবে না। তার পড়াশোনা ও পুরো পরিবারের সুন্দরভাবে দিনযাপনের জন্য প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অংকের আর্থিক অনুদান সরাসরি সুজনের বাবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সুজন পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে একদিন তার লালিত স্বপ্ন পূরণ করবে, এমন প্রত্যাশার কথা বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email