স্টাফ রিপোর্টার: শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনের হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে ২১৬ জনকে বিদেশে পাঠানোর কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ।

এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচিত বিদেশগামীদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৫৩ জনের হাতে ভিসা ও বিমান টিকিট তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে মেটকো এন্টারপ্রাইজের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে এসব নথি তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেটকো এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান ফারহানা কাদির রহমান, নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান, ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক এসএম হামিদ সরদার, নড়িয়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ রিন্টু প্রমুখ।

মেটকো এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান ফারহানা কাদির রহমান বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়েছে। তবে শফিকুর রহমান কিরণ সেই অর্থ নিজের জন্য নয়, বরং তাঁর নিজ জেলা ও নির্বাচনী এলাকার মানুষের কল্যাণে হাসিমুখে ব্যয় করছেন। দেশ ও এলাকার মানুষের জন্য ভালো কিছু করা ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলেই তিনি মানসিকভাবে তৃপ্তি ও শান্তি অনুভব করেন।

বিদেশে যেতে যাওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশে ফারহানা কাদির রহমান বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেরই হয়তো নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ বা কোনো দল ও ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পর তোমাদের মূল লক্ষ্য হবে কর্মসংস্থান, আত্মনির্ভরতা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। বিদেশের মাটিতে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে না জড়িয়ে দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে হবে এবং যে উদ্দেশ্যে বিদেশে যাচ্ছ, সেই কাজে মনোযোগী হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। বিদেশগামীদের সাফল্যই হবে এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় অর্জন। তাঁরা ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবেন-এটাই প্রত্যাশা।

সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, ‘হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোর আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে বিনা খরচে বিদেশে কর্মসংস্থানের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশগামীদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলা হয়েছে। ২১৬ জনের মধ্যে প্রথম ধাপে ৫৩ জনকে ভিসা ও টিকিট দেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে সবাইকে বিদেশে পাঠানো হবে।’

তিনি বলেন, আমি যে স্বপ্ন নিয়ে এমপি হয়েছি, তার এক শতাংশও করতে পারিনি। শরীয়তপুর জেলা, বিশেষ করে আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email