শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সামন্তসার উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদে সমাজসেবক জিয়াউর রহমান আহাদ মিয়া মনোনীত হওয়ার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জিয়াউর রহমান আহাদ জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন এমন একটি অভিযোগ এনে সম্প্রতি শিক্ষা বোর্ডে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, জিয়াউর রহমান আহাদ বা তাঁর পরিবার কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সংগে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তাঁর বাবা প্রয়াত শামসুর রহমান এলাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং দল-মত নির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বাবার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জিয়াউর রহমানও দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। স্থানীয় যুবক মামুন মিয়া নিজে বিদ্যালয়ের সভাপতি হতে চেয়ে ব্যর্থ হয়ে মনগড়া রাজনৈতিক পরিচয়ের ভুয়া অভিযোগ এনে শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

শিক্ষাবোর্ডে দায়েরকৃত এই লিখিত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক আরিফুল হক সরেজমিনে সামন্তসার উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

গোসাইরহাট উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান খান বলেন, “আমি বিএনপি পরিবারের লোক হয়েও বলতে পারি, শামসুর রহমান ও তাঁর ছেলে জিয়াউর রহমান আহাদ কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন না। বড় ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁরা সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন এবং সামন্তসার উচ্চ বিদ্যালয়ে জমি দানসহ অবকাঠামো নির্মাণে তাঁদের বিশাল অবদান রয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতেই আহাদকে সভাপতি করা হয়েছে। একটি চক্র তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

একই সুর মিলিয়ে গোসাইরহাট উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা তোতা কোতোয়াল জানান, “একসময় প্রতিষ্ঠানটি চালানো কঠিন হয়ে পড়লে আমার বাবার সহযোগিতায় শামসুর রহমান সাহেবকে স্কুলে আনা হয়। তিনি প্রায় এক একর জমি নিজ খরচে কিনে বিদ্যালয়কে দান করে প্রতিষ্ঠাতা হন। পরবর্তীতে ভবন নির্মাণ, সংস্কার ও মাঠ ভরাটের কাজেও এই পরিবার বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। তাঁরা রাজনৈতিক কোনো দল বা মিছিলে কোনোদিন যুক্ত ছিলেন না, তাঁরা সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধি।”

অভিযোগকারী মামুন মিয়ার সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জিয়াউর রহমান আহাদ বলেন, “আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে কাজ করে আসছে। বিদ্যালয়ের স্বার্থ বিবেচনা করেই শিক্ষা বোর্ড আমাকে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি অনুমোদন করেছে। আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম জানান, “আমার জানামতে জিয়াউর রহমান আহাদ বা তাঁর পরিবারের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো নজির নেই। স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ সবার পরামর্শেই শিক্ষা বোর্ডে তিনটি নাম পাঠানো হয়েছিল, যা থেকে বোর্ড আহাদকে সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে।”

 

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email