
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে যে ক’জন নেত্রী দৃঢ়তা, সাহস ও স্বীয় রাজনৈতিক দক্ষতায় যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন, খালেদা জিয়া তাঁদের অন্যতম। পেছনের সারিতে শান্তভাবে জীবনযাপন করা এক গৃহিণী থেকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার পথটি নিছক রাজনৈতিক উত্থান নয়; এটি একটি অনন্য ইতিহাস, যেখানে ব্যক্তিগত বেদনা, জাতীয় দায়িত্ববোধ এবং গণতন্ত্রের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম মিলেমিশে আছে।
দেশের রাজনীতিতে দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস ও আপোষহীন নীতির প্রতীক হিসেবে বারবার তার নামটি উচ্চারিত হয়। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুধু ইতিহাসই নয়, বরং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নেতৃত্বের একটি স্বতন্ত্র ধারা নির্মাণ করেছেন তিনি। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা ছিল সংকট, সংগ্রাম ও দৃঢ় প্রত্যয়ের সমন্বয় যা আজ তাঁকে একটি ‘আপোষহীন নেত্রী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর শোকাবহ পরিস্থিতিতে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও, খুব দ্রুতই তিনি জনগণের আস্থা অর্জন করেন। সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, কারাবরণ সব প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন দৃঢ়চেতা জননেত্রী হিসেবে। আন্দোলন-সংগ্রাম হোক বা রাষ্ট্র পরিচালনা দুই ক্ষেত্রেই তাঁর সিদ্ধান্তে ছিল স্থিরতা, আর বক্তব্যে ছিল স্পষ্টতা।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র, জনগণের অংশগ্রহণ এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও তিনি কখনো মতাদর্শিক অবস্থান থেকে সরে যাননি যার জন্যই তাঁকে বলা হয় আপোষহীন নেত্রী। তাঁর নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সংগ্রামী মনোভাব এবং দৃঢ় নেতৃত্বের গুণাবলি তাঁকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আজও তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রভাবশালী নাম সংকটের মুহূর্তে যাকে স্মরণ করা হয় দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে।
একটি জাতির রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন নেতৃবৃন্দের ভূমিকা শুধু সমকালীন নয়, ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বেগম খালেদা জিয়া সেই নেতৃত্বেরই উজ্জ্বল উদাহরণ যার নাম উচ্চারিত হয় আপোষহীনতার প্রতীক হিসেবে।
বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় খালেদা জিয়া ছিলেন এক কঠোর, দৃঢ় ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নেতা। কিন্তু রাজনৈতিক বিভাজন যাই থাকুক,ব্যক্তিগত শোক বিশেষ করে সন্তানের মৃত্যু মানুষকে একই জায়গায় দাঁড় করায়। রাজনৈতিক পরিচয় সেখানে গৌণ হয়ে যায়, মুখ্য হয়ে ওঠে মানবিক বেদনা। স্বামী হারানোর পরে ২০১৫ সালে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু ছিল খালেদা জিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত আঘাতগুলোর একটি। যে কেউ জানেন রাজারও মৃত্যুতে কাঁদে তার মা; রাজনীতিকেরও মৃত্যুশোক ঠিক ততটাই তীব্র। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরাও সে সময় শোক জানিয়েছিলেন, কারণ মাতৃত্বের ব্যথা কোনও দলমত মানে না।
আজ,বহু রাজনৈতিক বিতর্ক, মামলা, চিকিৎসা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকা এসবের পিছনে তার ব্যক্তিজীবনের এই শোকটিও নিশ্চয়ই নীরবভাবে বহমান। একজন নেতা জনজীবনে যত শক্তই হোন, ব্যক্তিজীবনে এমন ক্ষতি মানুষকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় রাষ্ট্রনেতারাও শেষ পর্যন্ত মানুষ, তাদেরও ক্ষত আছে, অভিমান আছে, প্রিয়জন হারানোর ব্যথা আছে।
এই শোকঘটনা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়: আমরা কি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মানবিক মর্যাদায় দেখতে পারি? আমরা কি ব্যক্তিগত বেদনার মুহূর্তে বিভাজন ভুলে সহানুভূতিশীল হতে পারি? রাষ্ট্র পরিচালনায় যেমন পরমর্শ, সমঝোতা ও মানবিকতা জরুরি ঠিক তেমনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ব্যক্তিজীবনের প্রতি সম্মান দেখানোও একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক মনোভাব।
গোটা জাতির কাছে ‘আপসহীন’ এক আবেগের নাম খালেদা জিয়া। আপসহীন এবং খালেদা জিয়া যেন সমার্থক শব্দ। আপসহীন শব্দটি উচ্চারণ করা মাত্রই যে কেউ বুঝতে পারেন কার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু নিজের সুবিধার জন্য বিন্দুমাত্র আপস করেননি। দেশ ছাড়েননি। সব সময় নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন। নিজের যোগ্যতায় তিনি এখন দেশের সত্যিকারের রাজনৈতিক অভিভাবক। জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।
দলমত নির্বিশেষে গণতন্ত্রকামী প্রতিটি মানুষের কাছে প্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। যিনি সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য-বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে জেল-জুলুমসহ নানামুখী ষড়যন্ত্র গভীর দেশপ্রেম দিয়ে মোকাবিলা করেছেন। দীর্ঘদিন থেকে নানামুখী জটিল রোগে ভুগছেন তিনি। ভোটের মাঠের রাজনীতি নিয়ে যতই মতবিরোধ আর দ্বন্দ্ব থাকুক না কেন-খালেদা জিয়া প্রশ্নে সবাই এক। বাংলাদেশের সব মানুষকে যিনি আজীবন হৃদয়ে ঠাঁই দিয়েছেন, সেই ৮০ বছর বয়সি নেত্রীর জন্য দোয়া আর ভালোবাসা একাকার হয়ে মিশে গেছে মানুষের অন্তরে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নয়, দেশের সব রাজনৈতিক শক্তির কাছেই তিনি একজন মুরব্বি ও অভিভাবক। খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের প্রতি আপসহীন অবস্থান প্রশ্নাতীত। এছাড়া খালেদা জিয়া এমন একজন গণতান্ত্রিক নেতা, যার রাজনৈতিক অভিভাবকত্ব এখন প্রতিষ্ঠিত। যিনি দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসেন এবং দেশের মঙ্গলের জন্যই সারাজীবন উৎসর্গ করেছেন। এই ত্যাগ স্বীকার করতে গিয়ে ফ্যাসিস্ট শাসকদের হাতে তাকে বারবার চরমভাবে নির্যাতিত হতে হয়েছে। নির্যাতনের ফলে অসুস্থ হয়েছেন এবং তার জীবন বিপন্ন অবস্থায় পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল এবং সব মানুষ তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ করছে। এটি একজন রাজনৈতিক অভিভাবকের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়। এছাড়া তিনি এখন সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে।
জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতিতে একজন দিশারির ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের একজন মুরব্বি ও অভিভাবক হিসাবে তার নীরব ও নিঃশব্দ অনেক ভূমিকা দৃশ্যমান। মূলত তার উপস্থিতিই কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের জন্য বড় অনুপ্রেরণার শক্তি। তার এই অভিভাবকত্বকে সব রাজনৈতিক দল শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করেছে। এই অভিভাবকসুলভ চরিত্র তাকে আজীবন অমর করে রাখবে। ইতোমধ্যে ইতিহাসে তার গৌরবোজ্জ্বল স্থান নির্ধারিত হয়ে গেছে।
খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে এত বছর ধরে দেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুদ্ধ করেছেন। অনেক কষ্ট পেয়েছেন, জেলে গেছেন এবং অনেক কটুকথা শুনেছেন। কিন্তু তিনি তার উত্তরে কাউকে কটুকথা বলেননি। বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে, অনেক অপমান করা হয়েছে। এজন্য তিনি অনেক কষ্ট পেয়েছেন, কষ্ট করেছেন। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন দেশ ছেড়ে যাননি। খালেদা জিয়া সব সময় বলেছেন, ‘এই দেশ আমার, এই দেশ ছেড়ে কোনো দিনই যাব না, এই জনগণের সঙ্গে আমি থাকব।’ সেজন্য সব রাজনৈতিক দল, মত, নির্বিশেষে সবার কাছে তিনি একটি জায়গায় পৌঁছে গেছেন। যাকে আমরা বলি ‘মুরব্বি’। যার দিকে সবাই উপদেশের জন্য তাকিয়ে থাকে। সে রকম একটা জায়গায় তিনি পৌঁছে গেছেন।
খালেদা জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক সেনাপ্রধান ও মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডারের স্ত্রী ও সাবেক ফার্স্ট লেডি। এসব পরিচয় ছাপিয়ে ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তীতে তিনি হয়ে উঠেন জাতির অনন্য এক অভিভাবক। দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে তিনি শ্রদ্ধার পাত্র। এই মানুষটি গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার নিয়ে ৪০ বছর সংগ্রাম করেছেন। এই মানুষটি জীবনে অন্যায়ের সঙ্গে কোনোদিন আপস করেননি। দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে তিনি তা মোকাবিলায় নিজের অবস্থান ও কৌশল তুলে ধরেছেন, যা জাতীয় রাজনীতিতে তাকে একটি কেন্দ্রীয় চরিত্রে পরিণত করেছে।
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। দীর্ঘ প্রতিকূলতা, সীমাহীন চাপ ও কঠিন বাস্তবতার মাঝেও তিনি যে দৃঢ়তা, সাহস ও আপসহীন নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে উজ্জ্বল অক্ষরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে আপসহীন লড়াকু নেত্রী খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক অনন্য অনুপ্রেরণা। তিনি বলেন, ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, স্বৈরতন্ত্রবিরোধী সংগ্রাম এবং পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যেকটি পর্বে খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব জাতীয় জীবনে গভীর প্রভাব রেখেছে। বাংলাদেশের বহু প্রজন্ম তাকে দেখেছে সাহস, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসাবে।
নানা বিভক্তি ও বিভাজনের এ দেশে সর্বজন শ্রদ্ধেয় মানুষের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। কিন্তু খালেদা জিয়া এ ক্ষেত্রে অনন্য। দেশপ্রেম ও অতুলনীয় ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি প্রায় সবার কাছে বিশেষ সম্মানের ও শ্রদ্ধার আসন অলংকৃত করেছেন। এই মুহূর্তে গোটা জাতি তাকে আন্তরিক দোয়ায় স্মরণ করছে। দলমত নির্বিশেষে অগণিত মানুষের এমন দোয়া ও ভালোবাসা পাওয়া সত্যিই পরম সৌভাগ্যের।
জাতীয় জীবনে যে কোনো রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো মানবতা। অসুস্থতার মুহূর্তে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং মানবিক সহমর্মিতাই বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার চলমান শারীরিক অসুস্থতা সেই মানবিক অনুভূতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন সময় তিনি দেশের রাজনীতি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জাতীয় ইস্যুগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকেছেন। তাঁর সুস্থতা শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, জাতীয় রাজনৈতিক পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর ভূমিকা নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সুস্থতা ও জীবন নিয়ে শুভকামনা প্রকাশ করা কোনো পক্ষের একার সম্পদ নয় এটি সার্বজনীন মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন।
এ সময়ে সমাজের বিভিন্ন স্তর, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মী সবাই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। এই প্রার্থনা ও শুভকামনাগুলো আমাদের সামাজিক বিন্যাসের সৌন্দর্যকে তুলে ধরে। মত ও পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু মানবিক সংহতি একসূত্রে বেঁধে রাখে সবাইকে। খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আমাদেরও আন্তরিক দোয়া রইল। তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন এটাই প্রত্যাশা।
লেখক: মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
কিংবদন্তি খালেদা জিয়া
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে যে ক’জন নেত্রী দৃঢ়তা, সাহস ও স্বীয় রাজনৈতিক দক্ষতায় যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন, খালেদা জিয়া তাঁদের অন্যতম। পেছনের সারিতে শান্তভাবে জীবনযাপন করা এক গৃহিণী থেকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার পথটি নিছক রাজনৈতিক উত্থান নয়; এটি একটি অনন্য ইতিহাস, যেখানে ব্যক্তিগত বেদনা, জাতীয় দায়িত্ববোধ এবং গণতন্ত্রের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম মিলেমিশে আছে।
দেশের রাজনীতিতে দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস ও আপোষহীন নীতির প্রতীক হিসেবে বারবার তার নামটি উচ্চারিত হয়। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুধু ইতিহাসই নয়, বরং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নেতৃত্বের একটি স্বতন্ত্র ধারা নির্মাণ করেছেন তিনি। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা ছিল সংকট, সংগ্রাম ও দৃঢ় প্রত্যয়ের সমন্বয় যা আজ তাঁকে একটি ‘আপোষহীন নেত্রী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর শোকাবহ পরিস্থিতিতে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও, খুব দ্রুতই তিনি জনগণের আস্থা অর্জন করেন। সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, কারাবরণ সব প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন দৃঢ়চেতা জননেত্রী হিসেবে। আন্দোলন-সংগ্রাম হোক বা রাষ্ট্র পরিচালনা দুই ক্ষেত্রেই তাঁর সিদ্ধান্তে ছিল স্থিরতা, আর বক্তব্যে ছিল স্পষ্টতা।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র, জনগণের অংশগ্রহণ এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও তিনি কখনো মতাদর্শিক অবস্থান থেকে সরে যাননি যার জন্যই তাঁকে বলা হয় আপোষহীন নেত্রী। তাঁর নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সংগ্রামী মনোভাব এবং দৃঢ় নেতৃত্বের গুণাবলি তাঁকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আজও তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রভাবশালী নাম সংকটের মুহূর্তে যাকে স্মরণ করা হয় দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে।
একটি জাতির রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন নেতৃবৃন্দের ভূমিকা শুধু সমকালীন নয়, ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বেগম খালেদা জিয়া সেই নেতৃত্বেরই উজ্জ্বল উদাহরণ যার নাম উচ্চারিত হয় আপোষহীনতার প্রতীক হিসেবে।
বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় খালেদা জিয়া ছিলেন এক কঠোর, দৃঢ় ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নেতা। কিন্তু রাজনৈতিক বিভাজন যাই থাকুক,ব্যক্তিগত শোক বিশেষ করে সন্তানের মৃত্যু মানুষকে একই জায়গায় দাঁড় করায়। রাজনৈতিক পরিচয় সেখানে গৌণ হয়ে যায়, মুখ্য হয়ে ওঠে মানবিক বেদনা। স্বামী হারানোর পরে ২০১৫ সালে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু ছিল খালেদা জিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত আঘাতগুলোর একটি। যে কেউ জানেন রাজারও মৃত্যুতে কাঁদে তার মা; রাজনীতিকেরও মৃত্যুশোক ঠিক ততটাই তীব্র। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরাও সে সময় শোক জানিয়েছিলেন, কারণ মাতৃত্বের ব্যথা কোনও দলমত মানে না।
আজ,বহু রাজনৈতিক বিতর্ক, মামলা, চিকিৎসা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকা এসবের পিছনে তার ব্যক্তিজীবনের এই শোকটিও নিশ্চয়ই নীরবভাবে বহমান। একজন নেতা জনজীবনে যত শক্তই হোন, ব্যক্তিজীবনে এমন ক্ষতি মানুষকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় রাষ্ট্রনেতারাও শেষ পর্যন্ত মানুষ, তাদেরও ক্ষত আছে, অভিমান আছে, প্রিয়জন হারানোর ব্যথা আছে।
এই শোকঘটনা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়: আমরা কি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মানবিক মর্যাদায় দেখতে পারি? আমরা কি ব্যক্তিগত বেদনার মুহূর্তে বিভাজন ভুলে সহানুভূতিশীল হতে পারি? রাষ্ট্র পরিচালনায় যেমন পরমর্শ, সমঝোতা ও মানবিকতা জরুরি ঠিক তেমনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ব্যক্তিজীবনের প্রতি সম্মান দেখানোও একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক মনোভাব।
গোটা জাতির কাছে ‘আপসহীন’ এক আবেগের নাম খালেদা জিয়া। আপসহীন এবং খালেদা জিয়া যেন সমার্থক শব্দ। আপসহীন শব্দটি উচ্চারণ করা মাত্রই যে কেউ বুঝতে পারেন কার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু নিজের সুবিধার জন্য বিন্দুমাত্র আপস করেননি। দেশ ছাড়েননি। সব সময় নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন। নিজের যোগ্যতায় তিনি এখন দেশের সত্যিকারের রাজনৈতিক অভিভাবক। জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।
দলমত নির্বিশেষে গণতন্ত্রকামী প্রতিটি মানুষের কাছে প্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। যিনি সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য-বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে জেল-জুলুমসহ নানামুখী ষড়যন্ত্র গভীর দেশপ্রেম দিয়ে মোকাবিলা করেছেন। দীর্ঘদিন থেকে নানামুখী জটিল রোগে ভুগছেন তিনি। ভোটের মাঠের রাজনীতি নিয়ে যতই মতবিরোধ আর দ্বন্দ্ব থাকুক না কেন-খালেদা জিয়া প্রশ্নে সবাই এক। বাংলাদেশের সব মানুষকে যিনি আজীবন হৃদয়ে ঠাঁই দিয়েছেন, সেই ৮০ বছর বয়সি নেত্রীর জন্য দোয়া আর ভালোবাসা একাকার হয়ে মিশে গেছে মানুষের অন্তরে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নয়, দেশের সব রাজনৈতিক শক্তির কাছেই তিনি একজন মুরব্বি ও অভিভাবক। খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের প্রতি আপসহীন অবস্থান প্রশ্নাতীত। এছাড়া খালেদা জিয়া এমন একজন গণতান্ত্রিক নেতা, যার রাজনৈতিক অভিভাবকত্ব এখন প্রতিষ্ঠিত। যিনি দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসেন এবং দেশের মঙ্গলের জন্যই সারাজীবন উৎসর্গ করেছেন। এই ত্যাগ স্বীকার করতে গিয়ে ফ্যাসিস্ট শাসকদের হাতে তাকে বারবার চরমভাবে নির্যাতিত হতে হয়েছে। নির্যাতনের ফলে অসুস্থ হয়েছেন এবং তার জীবন বিপন্ন অবস্থায় পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল এবং সব মানুষ তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ করছে। এটি একজন রাজনৈতিক অভিভাবকের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়। এছাড়া তিনি এখন সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে।
জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতিতে একজন দিশারির ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের একজন মুরব্বি ও অভিভাবক হিসাবে তার নীরব ও নিঃশব্দ অনেক ভূমিকা দৃশ্যমান। মূলত তার উপস্থিতিই কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের জন্য বড় অনুপ্রেরণার শক্তি। তার এই অভিভাবকত্বকে সব রাজনৈতিক দল শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করেছে। এই অভিভাবকসুলভ চরিত্র তাকে আজীবন অমর করে রাখবে। ইতোমধ্যে ইতিহাসে তার গৌরবোজ্জ্বল স্থান নির্ধারিত হয়ে গেছে।
খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে এত বছর ধরে দেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুদ্ধ করেছেন। অনেক কষ্ট পেয়েছেন, জেলে গেছেন এবং অনেক কটুকথা শুনেছেন। কিন্তু তিনি তার উত্তরে কাউকে কটুকথা বলেননি। বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে, অনেক অপমান করা হয়েছে। এজন্য তিনি অনেক কষ্ট পেয়েছেন, কষ্ট করেছেন। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন দেশ ছেড়ে যাননি। খালেদা জিয়া সব সময় বলেছেন, ‘এই দেশ আমার, এই দেশ ছেড়ে কোনো দিনই যাব না, এই জনগণের সঙ্গে আমি থাকব।’ সেজন্য সব রাজনৈতিক দল, মত, নির্বিশেষে সবার কাছে তিনি একটি জায়গায় পৌঁছে গেছেন। যাকে আমরা বলি ‘মুরব্বি’। যার দিকে সবাই উপদেশের জন্য তাকিয়ে থাকে। সে রকম একটা জায়গায় তিনি পৌঁছে গেছেন।
খালেদা জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক সেনাপ্রধান ও মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডারের স্ত্রী ও সাবেক ফার্স্ট লেডি। এসব পরিচয় ছাপিয়ে ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তীতে তিনি হয়ে উঠেন জাতির অনন্য এক অভিভাবক। দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে তিনি শ্রদ্ধার পাত্র। এই মানুষটি গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার নিয়ে ৪০ বছর সংগ্রাম করেছেন। এই মানুষটি জীবনে অন্যায়ের সঙ্গে কোনোদিন আপস করেননি। দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে তিনি তা মোকাবিলায় নিজের অবস্থান ও কৌশল তুলে ধরেছেন, যা জাতীয় রাজনীতিতে তাকে একটি কেন্দ্রীয় চরিত্রে পরিণত করেছে।
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। দীর্ঘ প্রতিকূলতা, সীমাহীন চাপ ও কঠিন বাস্তবতার মাঝেও তিনি যে দৃঢ়তা, সাহস ও আপসহীন নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে উজ্জ্বল অক্ষরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে আপসহীন লড়াকু নেত্রী খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক অনন্য অনুপ্রেরণা। তিনি বলেন, ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, স্বৈরতন্ত্রবিরোধী সংগ্রাম এবং পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যেকটি পর্বে খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব জাতীয় জীবনে গভীর প্রভাব রেখেছে। বাংলাদেশের বহু প্রজন্ম তাকে দেখেছে সাহস, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসাবে।
নানা বিভক্তি ও বিভাজনের এ দেশে সর্বজন শ্রদ্ধেয় মানুষের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। কিন্তু খালেদা জিয়া এ ক্ষেত্রে অনন্য। দেশপ্রেম ও অতুলনীয় ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি প্রায় সবার কাছে বিশেষ সম্মানের ও শ্রদ্ধার আসন অলংকৃত করেছেন। এই মুহূর্তে গোটা জাতি তাকে আন্তরিক দোয়ায় স্মরণ করছে। দলমত নির্বিশেষে অগণিত মানুষের এমন দোয়া ও ভালোবাসা পাওয়া সত্যিই পরম সৌভাগ্যের।
জাতীয় জীবনে যে কোনো রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো মানবতা। অসুস্থতার মুহূর্তে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং মানবিক সহমর্মিতাই বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার চলমান শারীরিক অসুস্থতা সেই মানবিক অনুভূতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন সময় তিনি দেশের রাজনীতি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জাতীয় ইস্যুগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকেছেন। তাঁর সুস্থতা শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, জাতীয় রাজনৈতিক পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর ভূমিকা নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সুস্থতা ও জীবন নিয়ে শুভকামনা প্রকাশ করা কোনো পক্ষের একার সম্পদ নয় এটি সার্বজনীন মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন।
এ সময়ে সমাজের বিভিন্ন স্তর, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মী সবাই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। এই প্রার্থনা ও শুভকামনাগুলো আমাদের সামাজিক বিন্যাসের সৌন্দর্যকে তুলে ধরে। মত ও পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু মানবিক সংহতি একসূত্রে বেঁধে রাখে সবাইকে। খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আমাদেরও আন্তরিক দোয়া রইল। তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন এটাই প্রত্যাশা।
লেখক: মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
কিংবদন্তি খালেদা জিয়া
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে: জামায়াতের সেক্রেটারি
বিপিএল নিলামে চমকের বন্যা: দলে যারা জায়গা পেলেন
২৯ দিনে এল ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি রেমিট্যান্স
ওএমএসের চাল ও আটা কালোবাজারির সময় ডিলারসহ আটক ২
ভেদরগঞ্জে মৎস্য অভিযানে দেড় লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, দুই জেলে আটক
ভেদরগঞ্জে এইচএসসি ফলাফল আশানুরূপ নয়-বেশিরভাগ কলেজেই ফেল বেশি
মিরপুরে অগ্নিকাণ্ডে আহত ৩ শ্রমিককে ৫০ হাজার টাকা করে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান
ভেদরগঞ্জে জালমুক্ত অভিযান: এক লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ, মা ইলিশ পেলো এতিমখানা
পাটব্যাগ চালু করতে শত কোটি টাকার ফান্ড নিয়ে কাজ করছে সরকার-উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন
আবাসন ভাতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ধুঁয়াসা
সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলের পার্কিংয়ে গাড়ি থেকে দুই মরদেহ উদ্ধার
অতিরিক্ত আইজি হলেন পুলিশের ৭ কর্মকর্তা
তফসিলের আগে এসপি-ওসিদের বদলি হবে লটারির মাধ্যমে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
দেশ ও জনগণের স্বার্থে এক থাকার আহ্বান: তারেক রহমান