শরীয়তপুর প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক বাতিল ঘোষিত হলেও আপিলের মাধ্যমে তা পুনর্বহাল হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই শেষে শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া–সখিপুর) সংসদীয় আসনে জনতার দলের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী পারভেজ মোশারফের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ফিরে পান।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শরীয়তপুর-০২ আসনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এলাকায় তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত মোঃ পারভেজ মোশারফ শুরুতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু করেন। তবে ভোটারদের স্বাক্ষর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পরে তিনি জনতার দল থেকে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন।

উচ্চশিক্ষিত এই তরুণ প্রার্থী বিএসএস (সম্মান), এমএসএস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) এবং এলএল.বি ডিগ্রিধারী। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি নড়িয়া সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অতিথি প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন তিনি।

পারভেজ মোশারফ ‘অগ্রযাত্রা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ ও ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। এসব সংগঠনের মাধ্যমে শরীয়তপুর জেলায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ, মাদক প্রতিরোধে অভিভাবক সমাবেশ এবং খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম। স্থানীয়ভাবে এসব উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় পারভেজ মোশারফ নিয়মিত জনগণের মতামত গ্রহণ করছেন এবং এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে তা তুলে ধরছেন। গণসংযোগকালে তিনি বলেন, আপিলের পর আমার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা হওয়ায় মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আলহামদুলিল্লাহ। এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা ব্যাপকভাবে সক্রিয়। জনগণ পরিবর্তন চায়। আমি বিশ্বাস করি, নতুন রাজনীতি ও নতুন নেতৃত্বের ধারণা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারব। তিনি আরও বলেন, ভোটাররা ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের অনুভূতি নিয়ে মাঠে ফিরেছেন। এই উচ্ছ্বাসই প্রমাণ করে, মানুষ সৎ, শিক্ষিত ও কাজ করতে পারে-এমন নেতৃত্বকে সামনে আনতে চায়।

শরীয়তপুর-২ আসন ঐতিহ্যগতভাবেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে থাকেন। তবে এবারের নির্বাচনকে ভিন্নভাবে দেখছেন স্থানীয় ভোটাররা।

নড়িয়ার প্রবীণ ভোটার মোজাম্মেল হক বলেন, পারভেজকে আমরা অনেকদিন ধরে চিনি। এলাকার যেকোনো প্রয়োজনে তাকে পাশে পেয়েছি। এবার তরুণদের সুযোগ দেওয়ার সময় এসেছে।

সখিপুরের কলেজ শিক্ষার্থী আকরাম বলেন, আমরা শিক্ষিত, ভদ্র ও আধুনিক নেতৃত্ব চাই। পারভেজ ভাইয়ের সামাজিক কাজগুলো আমাদের অনুপ্রাণিত করে।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বড় দলের প্রভাব থাকলেও পারভেজ মোশারফ তার সেবামূলক কর্মকাণ্ড, শিক্ষিত পরিচয় ও তরুণ নেতৃত্বের কারণে দ্রুত ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের বড় অংশ তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে।

প্রচারণায় পারভেজ মোশারফ জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে তিনি নড়িয়া–সখিপুরকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন। তার অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি খাতে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন এবং নদীভাঙন প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন।

তিনি বলেন, শরীয়তপুর-২ একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে নড়িয়া–সখিপুরকে একটি আধুনিক, কর্মসংস্থানমুখী ও মডেল অঞ্চলে রূপান্তর করা সম্ভব।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email